সুগার হলে কি খেলে ভালো হবে

বর্তমানে সুগার বা ডায়াবেটিস প্রত্যেকের শরীরের লক্ষণীয় হচ্ছে। এমনকি ২১-২৫ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রেও বর্তমানে লক্ষনীয় হচ্ছে। জেনে রাখু*ন ডায়াবেটিস একটি মারাত্মক রোগ এর কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তবে এটি চিকিৎসার মাধ্যমে আপনি এই ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। কি কারণে ডায়াবেটিস হয় এবং কি খেলে ডায়াবেটিস করা যায় তা এখন পর্যন্ত ওষুধ তৈরি হয়নি। তবে এটা নিয়ন্ত্রণ করে রাখা যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনার এই সুগার হলে কি খেলে ভালো হবে । আর এই বিষয় নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

বিশ্বজুড়ে নিঃশব্দ ভাই*রাসের মতই বাড়ছে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা। তবে কেউ যদি এই সুগার কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে তাহলেই তার জীবন হবে সুন্দর সুস্থ নয়। তবে বর্তমান সময়ে খাদ্যাভাসের অনিয়ম এবং ব্যস্ততার কারণে কেই খাওয়ার নিয়ম সঠিক মেনে চলতে পারছেন না।

একমাত্র এই খাওয়ার অনিয়ম এর ফলেই সুগার প্রতিটি মানুষের শরীরের বৃদ্ধি পায়। এবং র*ক্ত শর্করা অনিয়ন্ত্রিত হয়। আর আজকের আলোচনা আপনার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই মনোযোগ সহকারে যে কারোর শরীরে যদি সুগার লক্ষণীয় হয় তাহলে সুগার হলে কি খেলে ভালো হবে এ প্রশ্নের উত্তর এই পোস্ট থেকে জেনে নিন। অতঃপর সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ুন।

সুগার হলে কি খেলে ভালো হবে

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে খাবারের তালিকায় বেশ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। চিনি, ক্যালোরিন এসব খাবার একেবারেই কম খেতে হবে। বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া একদমই নিষেধ বলা চলে। এছাড়াও এই ডাইবেটিস রোগীদের হাইড্রেটেড থাকতে স্টার্চযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এবং আঁশযুক্ত  খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

আর যেভাবে শরীরে ডায়াবেটিস মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে তা হচ্ছে অগ্নাংশ থেকে পরিমান মত ইনসুলিন তৈরি না হলে। আর যদি পরিমাণ মতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তাহলে এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস অর্থাৎ সুগার বৃদ্ধি পায়। কারণ অতিরিক্ত শর্করা তখন আর শোষণ করতে পারে না ফলে র*ক্তের মধ্যে তার পরিমাণ বাড়তে থাকে। আর শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা এই ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

আর এই হরমোনের কার্যকারিতা ঠিক না থাকলেই সেখান থেকে একাধিক সমস্যা আসে। অতঃপর জেনে রাখু*ন সুগার হলে কি খেলে ভালো হবে । ডায়াবেটিসের রোগীদের হাই গ্লাইসেমিক খাবার, শর্করা, কার্বোহাইড্রেট এসব কম খেতে বলা হয়। তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন ডাক্তারগণ ডায়াবেটিস রোগীদের  নিচে দেওয়া লিখিত পানীয় খাবার গুলো খাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে।

  • চিনি ছাড়া লেবু জল
  • নারকেলর জল
  • ভেষজ চা
  • শশার রস
  • চিয়া বীজের জল

যেসব খাবার খেলে র*ক্তের সুগার কমে

ফাইবার যুক্ত খাবার খেলে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। চেষ্টা করুন প্রতিদিন এক বাটি করে ডাল খাওয়ার। কেননা এই ডালের মধ্যে থাকে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম। এবং অনেক ফাইবার থাকে, আর এই ফাইবার আপনার ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

এমনকি ভিটামিন সি জাতীয় সকল ফল বা খাবার খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আপনি টক জাতীয় জীবন খাবার খেতে পারেন। প্রতিদিন একটি করে লেবু খেতে পারেন। এতে আপনার সুগার অনেকটা হ্রাস পাবে। এমনকি নিয়মিত বা নিয়ম করে কালো আঙুর, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, কালোজাম, কিউই, পেঁপে,শসা, পেয়ারা এসব ফল রোজ খেতে পারেন।

এছাড়াও একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে কিউই খেলে ব্লাড সুগারের লেভেলকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়াও যারা জাম খেতে পছন্দ করেন তারা অবশ্যই জাম খাবেন। এই ফল ডায়বেটিস রোগীদের অনেকটা সাহায্য করবে সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে। এছাড়াও কামরাঙা অনেকটা উপকার করে থাকে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য। তাই যেকোন ডায়াবেটিস রোগীর নিয়ন্ত্রণে এসব খাবার অবশ্যই খাদ্য তালিকা রাখু*ন। এবং খাদ্য তালিকায় বিশেষ সতর্ক থাকুন। অতঃপর নিচের কয়েকটি খাবার তালিকা দেখু*ন।

  • পেয়ারা
  • বেরি
  • আপেল
  • আনারস
  • নাশপাতি

​ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য ফলসমূহ

নিচের দেওয়া উল্লেখিত ফল গুলোতে  প্রচুর পরিমাণে পানি এবং ফাইবার পাওয়া যায়। একজন  ডায়াবেটিস রোগীর জন্য অনেকটা সুস্থ কর। বিশেষ করে এই ফলগুলোতে ফাইবার থাকার কারণে ডায়াবেটিস রোগীর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। তাহলে অতঃপর আপনার যদি ডায়াবেটিস হয়ে থাকে তাহলে নিয়ম করে প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় নিচের দেওয়া ফলসমূহ রাখু*ন। এবং সুস্থ থাকুন।

  • স্ট্রবেরি
  • কমলা
  • পীচ
  • নাশপাতি
  • আলুবোখরা

ডায়াবিটিসের জন্য সবজি

এই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য শাকসবজি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অ-স্টার্চ শাকসবজি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সেরা বলে মনে করা হয়। আরে এই স্টার্চ হল একটি পলিস্যাকারাইড। যেটি ডায়াবেটিস রোগীর র*ক্তের শর্করা মাত্রা বৃদ্ধি করে। অতঃপর রুটি, ভাত এবং আলুতে স্টার্চ থাকে এবং র*ক্তে শর্করার মাত্রা ব্যাহত করতে পারে। অতএব নিচের তালিকা গুলো দেখে নিন আপনার ডায়াবেটিস বা সুগার হলে কোন সবজিগুলো খাওয়া উচিত। 

  • ব্রকলি
  • বিটরুট
  • পালং শাক
  • ফুলকপি
  • মটরশুটি
  • শশা

​সুগার রোগীদের জন্য ফল কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিভিন্ন ফল রয়েছে যে ফলগুলো গবেষণা দেখা গিয়েছে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেকটা সুস্থ করে এবং উপকারী। এর কারণ হচ্ছে ভিটামিন সি জাতীয় ফলগুলো চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।  ফলে ডায়াবেটিস রোগীর সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিশেষ করে কামরাঙ্গায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে।  যেটির ডায়াবেটিস কে অনেকটা কমাতে সাহায্য করে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখে।

এছাড়া আপেল ফাইবারযুক্ত একটি ফল এবং এই ফলটিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এবং ভিটামিন সি রয়েছে এই আপেলের ভিতরে। তাই আপনার সুগার কে নিয়ন্ত্রণেতে প্রতিদিন একটি করে হলেও আপেল খেতে পারেন। এমন কি স্ট্রবেরি ফল রয়েছে এবং এতে কার্বোহাইড্রেইডের পরিমাণ খুব কম থাকে।

যা  একজন ডায়াবেটিস রোগীর ব্লাড সুগারকে স্থিতিশীল রাখে। এছাড়াও আরো অন্যান্য ফল রয়েছে, যে ফলগুলো একজন ডায়াবেটিস রোগীর র*ক্তের শর্করা পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং সুগারকে নিয়ন্ত্রণ রাখে। অতঃপর আরেকটু নিচে প্রবেশ করে জেনে  রাখু*ন সুগার হলে কি খেলে ভালো হবে ।

যে ৫ খাবার বাদ দিলেই জীবনে ছুঁতেও পারবে না সুগার!

খাবারের অনিয়ম এবং এলোমেল খাবার খাওয়ার ফলেই অনেকের শরীরে ডায়াবেটিসের  মতো মারাত্মক রোগ দেখা দেয়।  তাই আমরা যদি নিয়ম করে কয়েকটি খাবার আমাদের খাদ্যাভ্যাস থেকে দূরে রাখতে পারি তাহলেই আমরা ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত থাকতে পারবো। জেনে নিন সেই পাঁচটি খাবার, যে পাঁচটি খাবার থেকে দূরে থাকলে আপনি কখনো ডায়াবেটিস আক্রান্ত হবেন না। অতঃপর সেই ৫টি খাবারের তালিকা হলো।

  • কার্বোহাইড্রেট কম খান
  • স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম খান
  • চিনি একদম নয়
  • অ্যালকোহল ছুঁয়েও দেখবেন না
  • নুন কম খান

সুগার নিয়ন্ত্রণে গাজর খান নিয়মিত

এই গাজরে বিভিন্ন ধরনের উপাদান পাওয়া যায়। সেই উপাদান গুলো হচ্ছে বিটা কারোটিন,ফাইবার,ভিটামিন এ এবং পটাশিয়াম এর মত পুষ্টি উপাদান। অতঃপর আপনার সুগার নিয়ন্ত্রণে এই গাজর প্রতিদিন সিদ্ধ করে খেতে পারেন অথবা ভালোভাবে ধুয়ে কাঁচা চিবিয়ে খেতে পারেন। আশা করা যায় আপনার সুগার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে নিয়ম করে খেতে হবে।

সুগার নিয়ন্ত্রণে শশা খান নিয়মিত

কেউ যদি নিয়ম করে প্রতিদিন শসা খায়, তাহলে তার সুগার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এবং পুষ্টিবিদদের মতে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। আমরা জানি ফাইবার সুগারকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। এমন কি এটি সুগারকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

তাই ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন ওষুধ  গ্রহণ করার পাশাপাশি এসব খাবার অনেকটা উপকারী। আর শসা র*ক্তের কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। অতঃপর আপনি যদি প্রতিদিন ১০০ গ্রাম শশার রস খালি পেটে সকালে কি খেতে পারেন তাহলে অবশ্যই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আসবে।

শেষ কথা

আশা করি আপনারা এই পোস্ট থেকে সুগার রোগীদের খাদ্য তালিকায় এবং কোন কোন খাবার খেলে সুগার কমে যাবে তা জানতে পেরেছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে এই তথ্য আমরা আপনাদের জন্য খুব সহজে উপস্থাপন করার জন্য চেষ্টা করেছি। আশা করছি এই পোস্ট থেকে আপনারা অনেক বেশি প্রকৃত হয়েছেন। এবং জানতে পেরেছেন সুগার হলে কি খেলে ভালো হবে । অতঃপর এই পোস্ট থেকে যদি সত্যিই উপকৃত হয়ে থাকেন। তাহলে অবশ্যই আপনার আশেপাশের ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের এই পোস্ট শেয়ার করে জানিয়ে দিন। ধন্যবাদ