পেয়ারা পাতার উপকারিতা

আমরা শুধু এই সুস্বাদু পেয়ারার সম্পর্কেই অবগত, কিন্তু এই পেয়ারা পাতার যে উপকারিতা রয়েছে তা সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা। পেয়ারা পাতার অনেক গুণ রয়েছে,বলতে গেলে এই পাতার গুণের শেষ নেই। আপনার ত্বকের যত্নে, চুলের যত্নে, হজমের সমস্যা এড়াতে পেয়ারা পাতার ব্যাপক কার্যকারিতা রয়েছে। তবে বিশেষ যে পেয়ারা পাতার উপকারিতা রয়েছে তা নিয়ে আজকে বিস্তারিত আলোচনা করব।

প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বিদ্যমান। র*ক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ সহ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই পেয়ারা পাতা অনেক বেশি উপকারী। তবে সঠিক উপকারিতা পেতে সঠিকভাবে এই পেয়ারা পাতাকে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও এই পেয়ারা পাতাতে অবস্থিত রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি। অতঃপর পেয়ারা পাতার উপকারিতা বিস্তারিতভাবে জানার জন্য অবশ্যই আপনাকে এই পোস্ট প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে।

পেয়ারা পাতার উপকারিতা

কিছু গবেষণায় উল্লেখিত তথ্যে পেয়ারা পাতা আমাদের শরীরের জন্য প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়া বা শরীরের ক্ষতি না করেই সুস্থ করে তোলে। এছাড়াও বিশেষ কার্যকারিতা উপলক্ষে এই পাতাতে যে রাসায়নিক উপাদান গুলো পাওয়া যায় তা হচ্ছে ক্যারোটিনয়েড,পলিফেনল,এবং ট্যানিন ফ্ল্যাভোনয়েড রাসায়নিক। আর এর রাসায়নিক গুলো বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

এতক্ষণ সংক্ষিপ্ত পরিসরে আপনাদেরকে পেয়ারা পাতার উপকারিতা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতঃপর এখন আপনাদেরকে এ পেয়ারা পাতার সকল গুনাগুন এবং উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেব। অতএব ত্বকের যত্নে হজমের সমস্যা দূর করতে পেয়ারা পাতার উপকারিতা রয়েছে তা বিস্তারিত নিচে প্রবেশ করে জেনে নিন। 

পেয়ারা পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

শরীরের বিভিন্ন অসুখ থেকে আপনাকে নিরাময় করতে পেয়ারা পাতা অনেক বেশি সাহায্য করে থাকবে। তাই সুস্বাদু পেয়ারার পাশাপাশি সঠিক পদ্ধতিতে নিয়ম অনুসারে পেয়ারা পাতা গ্রহণ করুন। এতে করে আপনি বিভিন্ন সমস্যা থেকে প্রতিনিয়ত মুক্তি পেতে থাকবেন। তবে এই পেয়ারা পাতা গ্রহণে কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আপনার শরীরে লক্ষণীয় হবে না। বলতে গেলে এই পেয়ারা পাতা একটি প্রাকৃতিক ঔষধ। তাই নিচে কয়েকটি পেয়ারা পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা আলাদাভাবে তালিকা আকারে উল্লেখ করা হলো।

উপকারিতা:

  • পেয়ারা পাতা হাইপারগ্লাইসেমিয়া কমাতেও সাহায্য করে।
  • আপনার শরীরের লিপিডের পরিমাণ অর্থাৎ চর্বির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।
  • র*ক্তের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখে।
  • হজমের সমস্যা কে খুব দ্রুত নিরাময় করে। এবং ভালো উপকারিতা প্রদর্শন করে।
  • ডায়রিয়া যাদের রয়েছে তাদের জন্য এই পেয়ারা পাতা অনেক বেশি উপকারী।
  • এমন কি শরীরের শুক্রানুর সংখ্যা বৃদ্ধি করতেও পেয়ারা পাতা অনেক বেশি কার্যকরী।
  • শরীরে থাকা খারাপ খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে।
  • পেট সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা দূর করে হিমোগ্লোবিনের বাড়াতে সাহায্য করে।

অপকারিতা:

  • তাকে ব্যবহারের ফলে নির্যাস একজিমা হতে পারে অর্থাৎ জ্বালাপোড়া করতে পারে।
  • এছাড়া স্বাস্থ্য মতে ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়া উচিত নয়। তবে খেলেও পরিমাণমতো খেতে হবে।
  • আপনার দাঁতজনিত রোগ হতে পারে।
  • অতএব অতিরিক্ত পেয়ারা গ্রহণ করলে প্রয়োজনের থেকে র*ক্তচাপের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে পেয়ারা পাতা থেকে দূরে থাকা উচিত। ওষুধিগুণ ওষুধ হওয়ায় বিশেষ কার্যকরিতা রয়েছে তাই সাবধানতার সহিত গ্রহণ করা উচিত। তবে পেয়ারা পাতা না খাওয়াই উত্তম।

পেয়ারা পাতার ৫টি উপকারিতা

এই পেয়ারা পাতার উপকারিতা ইতিমধ্যে সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও আরো যে বিশেষ পাঁচটি উপকারিতা রয়েছে তা নিচে উল্লেখ করছি। আমাদের আশেপাশের গাছপালা সাথে এই পেয়ারা গাছ থেকে থাকে। তবে আমরা কখনোই এ পেয়ারা পাতার ব্যবহার সম্পর্কে জানিনা। ব্যবহার করার পূর্বে অবশ্যই অনুপ্রাণিত হতে অবশ্যই এর উপকারিতা সম্পর্কে জানতে হবে। তাই পেয়ারা পাতার পাশে উপকারিতা নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • ​আপনার শরীরে র*ক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করবে। এছাড়া পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। 
  • ​এছাড়াও খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। অন্যতম রোগ সর্দি কাশি থেকে উপশম পেতে সাহায্য করে এই পেয়ারা পাতা।
  • আপনার শরীরে থাকা লিপিডের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে ও ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • ডায়রিয়ায় জন্য উপকারী। এবং ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী অর্থাৎ সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং কমাতে সাহায্য করে এই পেয়ারা পাতা। 
  • এই পেয়ার পাতা বিশেষ নিয়ম গ্রহণে শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও আপনার শরীরের ক্যান্সার প্রতিরোধে হিসেবে কাজ করতে পারে। 

পেয়ারা পাতার উপকারিতা চুলের জন্য

এই পেয়ারা পাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় চুলের জন্য অনেক বেশি উপকারী। আপনার চুলকে মজবুত করতে এবং নতুন দ্রুত এবং স্বাস্থ্যবান করতে অনেক বেশি সহায়তা করে এই পেয়ারার পাতা। তবে অবশ্যই আপনাকে সঠিক নিয়মে গ্রহণ করতে হবে। এবং সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে হবে।

পেয়ারা পাতা চুলের উপকারিতা পেতে এই পেয়ারা পাতার রস অবশ্যই আপনার চুলের গোড়াতে পৌঁছে দিতে হবে। এছাড়া চুল পড়া কমাতে এই পেয়ারা পাতা অনেক বেশি উপকার। এজন্য নিচে দেওয়া তালিকা তে পেয়ারা পাতা ব্যবহারে সঠিক পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। নিচের প্যারাগ্রাফ থেকে চুলের জন্য পেয়ারা পাতার ব্যবহার দেখে নিন।

পেয়ারা পাতা খাওয়ার নিয়ম

এই পেয়ারা পাতা খাওয়ার অনেক নিয়ম রয়েছে। তবে যারা বিশেষ রোগ নিরাময়ের জন্য এই পেয়ারা পাতা খেতে চাচ্ছেন অবশ্যই সঠিক নিয়মে এই পেয়ারা পাতা খেতে হবে। সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে পেয়ারা পাতাকে খাওয়ার উপযোগী করতে হবে। অর্থাৎ পেয়ারা পাতা খাওয়ার নিয়ম গুলো নিচে আলোচনা করা হলো। 

  • পেয়ারা পাতা চা বানিয়ে খেতে পারবেন।
  • পেয়ারা পাতার সাথে মধু বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে খেতে পারবেন।
  • ব্রণ দূর করতে পেয়ারা পাতা বেটে মুখে লাগাতে পারেন।
  • এমনকি পেয়ারা পাতা সেদ্ধ করে এর পানি গ্রহণ করতে পারেন।

এছাড়াও বিশেষ করে যারা চুলের জন্য পেয়ারা পাতাকে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন। এবং চুলকে মজবুত এবং ভালো রাখতে চাচ্ছেন। তাদের জন্য এই পেয়ারা পাতার সঠিক ব্যবহার নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • প্রথমে ৪-৫ কাপ পানি নিন একটি পাত্রে।
  • দ্বিতীয়ত সেই পাত্রে ৫থেকে ৬টি পাতা ২০ মিনিট পর্যন্ত সিদ্ধ করুন।
  • পাতা সিদ্ধ সম্পন্ন হলে এতে ২ থেকে ৩ কাপ পরিমাণ ঠান্ডা পানি মিশিয়ে দিন।
  • অতঃপর হালকা গরম হলেই আপনার মাথার ত্বকে লাগিয়ে নিন।
  • এভাবে এক ঘন্টার মত আপনার মাথায় রেখে দিবেন।
  • এবং একঘন্টা পর আপনার মাথা দিয়ে ফেলুন।

পেয়ারা পাতা চুলে ব্যবহার করার জন্য একটি পরিষ্কার পাত্রে ৩ থেকে ৪ কাপ পানি নিয়ে তাতে ৫-৬টি পেয়ারা পাতা দিয়ে ২০ মিনিট সেদ্ধ করুন। তারপর এই গরম পানির সাথে ২ কাপ পরিমান ঠান্ডা পানি মেশান। তারপর এই পানিটি হালকা গরম থাকা অবস্থায় মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে প্রায় ১ ঘন্টার মত রেখে দিন। ১ ঘন্টা পর আপনার মাথা ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

ত্বকের যত্নে পেয়ারা পাতা

সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক পদ্ধতিতে পেয়ারা পাতা খেলে হয় ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। অর্থাৎ অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্য ত্বক টানটান রাখে এবং উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। এছাড়াও ত্বকে থাকা কালো দাগ এর ছাপ সারিয়ে তুলে সহায়তা করে। এছাড়াও এই পেয়ারা পাতা আপনার ত্বকের বা মুখের ব্ল্যাকহেডস সারিয়ে তোলে।

হজমের সমস্যা দূর করতে পেয়ারা পাতা

সকলে আমরা পেয়ারা পাতার উপকারিতা সম্পর্কে ইতিমধ্যে হয়তো জেনেছি। তবে যাদের বর্তমানে হজমের সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই পেয়ারা পাতাকে কাজে লাগান। যদি আপনার বাড়ির আশেপাশে কোন পেয়ারা গাছ থাকে। হজমের সমস্যা কে দূর করতে পেয়ারা পাতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি প্রাকৃতিক ঔষধ।

এই পেয়ারা পাতা পেটে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে সহায়তা করে। এবং পেটকে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। তাই হজমের সমস্যা দূর করতে পেয়ারা পাতা সিদ্ধ করতে যে পানি ব্যবহৃত হয় সেই পানি প্রতিদিন তিন বেলা গ্রহণ করুন।

ব্রণ দূর করতে পেয়ারা পাতা

যাদের মুখে কালো ছাপ ছাপ বা বিভিন্ন ধরনের ব্রণ উৎপত্তি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ব্রণ দূর করতে পেয়ারা পাতা ব্যবহার করুন। প্রথমত কয়েকটি পেয়ারা পাতা ভালোভাবে সিদ্ধ করুন। সিদ্ধ করার পর পানিকে ঠান্ডা করুন অতঃপর সেই পানি আপনার মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন বা মুখ ধৌত করুন। কেননা এই  পেয়ার পাতা তে ভিটামিন সি বিদ্যমান রয়েছে। যা দূর করতে সহায়তা করে।

শেষ কথা

আশা করছি আপনারা আমাদের এই আর্টিকেল থেকে পেয়ারা পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আর আপনার আশে পাশের বহু পেয়ারা গাছ দেখতে পারবেন। যদি এই পোস্ট আপনারা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে থাকেন। তাহলে অবশ্যই আপনারা এই পেয়ারা পাতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারবেন। অতঃপর পেয়ারা পাতাকে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করুন ও সুস্থ থাকুন। যদি এই পোস্ট আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার আশেপাশের ব্যক্তিদেরকে শেয়ার করে জানিয়ে দেবেন। ধন্যবাদ