ঢোক গিলতে গলা ব্যথার ওষুধ এর নাম

কারো ঢোক গিলতে গলা ব্যথা করে থাকে,সাথে কথা বলতে সমস্যা হয়, এমনকি খেতে অসুবিধা হয়। বিভিন্ন কারণে একজন ব্যক্তির এই সমস্যা হতে পারে। এমনকি এইসব সমস্যা গুলোর কারণে অস্বাভাবিক আরো অন্যান্য সমস্যার লক্ষণ গুলি দেখা দিতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে অবশ্যই এসব রোগ দেখা দিলে প্রাথমিক ঘরোয়া উপায় গুলো মেনে চলুন।

আর এখন শীতের সময়, ঋতু ও আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে এজন্য সাধারণত ঠান্ডা কাশির পর অনেকের গলা ব্যথা শুরু হয়। যেখানে সাধারণত গলা ব্যথা শুরু হলে অনেকের ঢোক গিলতে সমস্যা হয়। তবে একজন ব্যক্তির টনসিল, খাদ্য নালীর উপরের অংশ,নরম তালু।

এবং জিহ্বার পিছনের অংশ ইত্যাদি এই অঙ্গগুলি বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে থাকে বা হতে পারে। তবে প্রাথমিকভাবে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। ঘরোয়া উপায় সহ বিভিন্ন ওষুধ সেবন করলে খুব দ্রুত ঢোক গিলতে হওয়া ব্যথা নিরাময় করা যায়। অতএব এই পোস্ট সম্পূর্ণ পড়ে ঢোক গিলতে গলা ব্যথার ওষুধ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিন।

ঢোক গিলতে গলা ব্যথার ওষুধ

 এ রোগে বেশিরভাগ শিশু এবং কিশোরেরা আক্রান্ত হয়ে থাকে। তবে বিভিন্ন প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন ওষুধ গ্রহণ করলে এ ব্যথা এবং এই রোগ দ্রুত নিরাময় করা সম্ভব হয়। অনেকের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ঢোক গিলতে সমস্যা হয় বা গলা ব্যথা হয়। আবার বেশিরভাগ মানুষের ঠান্ডা কাশির পর এই রোগটি লক্ষণীয় হয়।

তবে ঘরোয়া উপায় কিছু খাদ্য গ্রহণ করলে বা মেনে চললে দ্রুত এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়। তবে বর্তমান সময়ে যেহেতু বিভিন্ন ধরনের ভাই*রাসের আক্রমণ বা সংক্রামিত হচ্ছে। তাই সাধারণত একসাথে ঠান্ডা লাগা, তিন বেশি জ্বর থাকা, গলা ব্যথা করা,খুশখুশ করা, জোরে জোরে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া।

ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই একজন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। অতএব যাদের সাধারণ ঢোক গিলতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে তারা এই পোস্ট থেকে এ ব্যথা সারানোর বিভিন্ন এলোপ্যাথিক ঔষধ, হোমিও ঔষধ সহ বিভিন্ন ট্যাবলেটের নাম এই পোস্ট থেকে জেনে নিন।

ঢোক গিলতে গলা ব্যথার ওষুধ নাম

এই গলা ব্যথা বিভিন্ন রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাই বর্তমান সময়ে এ রোগ থেকে অবশ্যই সাবধান হওয়া উচিত। তা আপনার গলা ব্যথা শুরু হলে আর বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক ঔষধ সহ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে পারেন। তবে যাদের ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হচ্ছে তাদের জন্য গলা ব্যথা নিরাময় করার কয়েকটি ওষুধের নাম এখানে উল্লেখ করেছি।

  • টসপেল (Tospel)
  • ডেক্সট্রিম (Dextrim)
  • ডক্সিন (Doxin)
  • প্যারাসিটামল রেনোভা (Paracetamol Renova)
  • ডক্সিসাইক্লিন (Doxycycline)

গলা ব্যথার বিভিন্ন উপসর্গ

গলায় ব্যথা একটি সাধারন সমস্যা মনে হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিল রোগের লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পেয়ে থাকে। এই গলা ব্যথা কে ইংরেজিতে ফ্যারিঞ্জাইটিস (Pharyngitis) বলা হয়। প্রায় ক্ষেত্রে একজন মানুষের ঠান্ডা লাগা ও ফ্লু (ইনফ্লুয়েঞ্জা) এর জীবাণুর সংক্রমণে গলায় ব্যথা সহ এ ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতএব নিচের কয়েকটি তালিকা থেকে জেনে নেওয়া যাক গলা ব্যাথার বিভিন্ন উপসর্গ সম্পর্কে।

  • গলা ব্যথার জন্য গলায় শুষ্ক চুলকানি হওয়া।
  • সর্দি
  • কাশি
  • দুর্বলতা
  • গলা ফুলে যাবে
  • কথা বলতে কষ্ট হবে
  • খাবার গিলতে বা ঢোক গিলতে কষ্ট হবে
  • শ্বাস নিতে গলা ব্যথা হবে।
  • সহ  ঢোক গিলতে সমস্যা অনুভূত হওয়া।
  • খাবার গিলতেও সমস্যা হওয়া।
  • হাম, চিকেনপক্স এর সংক্রমনেও গলা ব্যাথা হতে পারে।
  • এমনকি টনসিলের সমস্যা ও ডিপথেরিয়ার কারণেও গলা ব্যাথা হয়ে থাকে।
  • এলার্জি জনিত সমস্যা সমস্যা সৃষ্টি হওয়া।
  • শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে গালা ব্যথা দেওয়া।
  • বিশেষ করে কোন কারণে শীতকালে ঘরের তাপমাত্রা বেশি গরম হয়ে যাওয়া।
  • ধূমপান করার কারণে।
  • অধিক মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে।
  • গলার মাংসপেশীতে চাপ লাগার ইত্যাদি কারণে গলা ব্যথা হতে পারে।

গলা ব্যথার ট্যাবলেট এর নাম বাংলাদেশ

একজন সাধারণ রোগী যখন গলা ব্যথা নিয়ে ডাক্তারের কাছে শরণাপন্ন হন। তখন একজন ডাক্তারের সাধারণত নিচের দেওয়া ওষুধ গুলো রোগীকে প্রদান করে থাকেন। তবে ডক্সিসাইক্লিন গ্রুপের যেকোনো কোম্পানির ঔষধ সেবন করতে পারেন। এছাড়াও গলা ব্যথা সারানোর কয়েকটি ট্যাবলেটের নাম উল্লেখ করা হলোঃ

  • সুয়ালেক্স
  • রোলাক
  • জিরোডল-পি
  • ট্রাইডোসিল-৫০০
  • মক্সাসিল-৫০০
  • নাপা এক্সটেনড (আপনার যদি গলা ব্যথার পাশাপাশি জ্বর ও থাকে তবে আপনার জন্য সবথেকে কার্যকরী ট্যাবলেট হবে)

ঢোক গিলতে গলা ব্যথার ঔষধ এর দাম কত

ঢোক গিলতে যেহেতু গলা ব্যথা হয়। সেহেতু বিভিন্ন সিরাপ সহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট পাওয়া যায়। ওষুধগুলো খেয়ে আপনার গলা ব্যথা খুব সহজে দূর করতে পারবেন। তবে ওষুধগুলোর মূলত গ্যাস সর্বনিম্ন পাঁচ থেকে সাত টাকা  পিস। এবং কিছু কিছু ওষুধ টাকা এবং ১৫০ টাকা পর্যন্ত।

গলা ব্যথার এলোপ্যাথিক ঔষধ

অ্যালোপ্যাথি ঔষধ যা প্রচলিত ওষুধ হিসাবেও পরিচিত। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে। আপনার রোগ নিরাময় করতে এ সকল ঔষধ আপনি প্রায় সকল জায়গায় পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ আপনার এলাকার নিকটস্থ ফার্মেসির দোকান থেকে এই গলা ব্যথার এলোপ্যাথিক ওষুধ গুলো খুব সহজেই সংগ্রহ করতে পারবেন।

  • রোলাক (গলা ব্যথা সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যথার উপসমকারী ট্যাবলেট)
  • জিম্যাক্স ৫০০
  • নাপা এক্সটেন্ড (এই ওষুধটি জ্বর হলেও এবং ঠান্ডা লাগলেও খেতে পারবেন।
  • ডক্সিন (Doxin)
  • প্যারাসিটামল রেনোভা (Paracetamol Renova)
  • ডক্সিসাইক্লিন (Doxycycline)

গলা ব্যথার হোমিওপ্যাথি ওষুধ

এই হোমিওপ্যাথি ও একটি পরিপূরক এবং বিকল্প ঔষধ পদ্ধতি যা “লাইক কিউর লাইক” নীতির উপর ভিত্তি করে। আপনার যদি গলা ব্যথা থেকে থাকে তাহলে একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথির সাথে যোগাযোগ করুন। ঈদে হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার গুলি উৎপাদিত প্রাকৃতিক পদার্থ থেকে তৈরি। যা আপনার রোগ খুব সহজে নিরাময় করতে সাহায্য করবে।

  • ক্যালি বাইক্রোমিকিাম
  • ফেরাম ফসফোরিকাম
  • আর্সেনিকাম অ্যালবাম
  • অ্যালিয়াম সেপা
  • অ্যাকোনাইট

ঠান্ডায় গলা ব্যথা হলে ঔষধ

যদি কারো ঠান্ডা থেকে গলা ব্যথা শুরু হয় তাহলে নিচের দেওয়া ওষুধ গুলো খেতে পারেন। প্রায় ক্ষেত্রে ঠান্ডার পরপরই অনেকের গলা ব্যথা শুরু হয়। সাথে সর্দি,কাশি ও থাকতে পারে। অতএব ঠান্ডার পর গলা ব্যাথা শুরু হলে নিচে দেওয়া ওষুধ গুলো খেতে পারেন। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গ্রহণ করুন।

  • হিস্টাসিন ( Histacin)
  • ফেক্সো (Fexo)
  • ডেসলর (Deslor)
  • এইচ প্লাস (Ache+)
  • ফিলা মেক্স (Fila Mex)
  • হিস্টা লেক (Histalec)
  • নিওসিলর (NeoCilor)
  • নাপা এক্সটেন্ড ( Napa Extend)
  • কার্ভা ৭৫ Carva 75
  • ট্রিডোসিল ক্যাপসুল (Tridosil capsule)

গলা ব্যাথা থেকে বেঁচে থাকতে করণীয়

গলা ব্যথার যেহেতু ভিন্ন কারণ রয়েছে, তাই আগে ভালোভাবে নির্ণয় করে নিন আপনার গলা ব্যথা কি জন্য হচ্ছে। যদি আপনার ঠান্ডা জনিত কারণে সর্দি কাশির পর গলা ব্যথা হয়ে থাকে তাহলে নিচে দেওয়া করনীয় গুলো মেনে চলতে পারেন।

  • এক্ষেত্রে হলুদ চা পান করতে পারেন।
  • তুলসী পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন।
  • এছাড়া আর তুলসী পাতার রস এর সাথে মধু মিশিয়ে গ্রহণ করতে পারেন।
  • ঠান্ডা সহ যে কোন ধরনের গলা ব্যথায় মধু খেতে পারেন।
  • প্রতিদিন ২-৩ বার লবঙ্গ চা পান করতে পারেন।

এ সকল উপায় গুলো মানার পর যদি গলা ব্যথা না দূর হয় তাহলে অবশ্যই একদিন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ওষুধ গ্রহণ করুন। আশা করা যায় আপনার গলা ব্যথা খুব দ্রুত দূর হয়ে যাবে।

ঢোক গিলতে গলা ব্যথা সারানোর ঘরোয়া উপায়

বর্তমান সময়ে খুব কম সংখ্যক মানুষ হয়েছেন সারা ঘরোয়া উপায়ে রোগকে নিরাময় করতে চেষ্টা করেন। সামান্য কিছু রোগ হলেই অনেকেই ডাক্তারের কাছে শরণাপন্ন হন। যেটা একদম ঠিক হয় না,অর্থাৎ সাধারণ রোগ লেখা দিলে ডাক্তারের স্বনাপন্ন হওয়া উচিত নয়। প্রথমত প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

অর্থাৎ ঘরোয়া উপায়ে অনেক প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া যায়,যে চিকিৎসা নিলে খুব দ্রুত রোগী আমায় করা সম্ভব হয়। তাই আপনার যদি সাধারণত গলা ব্যথা শুরু হয় ঢোক গিলার কারণে। তাহলে নিচে কিছু ঘরোয়া উপায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ঘরোয়া উপায় গুলো একবার পালন করে দেখু*ন আশা করা যায় আপনার ঢোক গিলতে গলা ব্যাথা খুব সহজে দূর হবে।

  • এ সময় মধু খেতে পারেন।
  • হালকা গরম জল দিয়ে গার্গল করুন।
  • ঠান্ডা দুধ।
  • পিপারমিন্ট।
  • হালকা খাবার খান।

শেষ কথা

বিভিন্ন কারনে ঢোক গেলার সময় গলায় ব্যাথা অনুভুত হতে পারে। তাই এতে ঘাবরে যাওয়ার কিছু নাই। কিভাবে ঢোক গিলার ব্যাথার দূর করবেন তার বিস্তারিত উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করতেছি ইতিমধ্যে আপনার সমস্যা দূর করতে ঢোক গিলতে গলা ব্যথার ওষুধ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। যদি এই পোস্ট থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার আশেপাশের ব্যক্তিদের কে শেয়ার করে জানিয়ে দিবেন। ধন্যবাদ